কোরবানির ঈদ কত তারিখে ২০২৩ ঈদুল আযহা কত তারিখে জানুন

কোরবানির ঈদ কত তারিখে ২০২৩, ঈদুল আযহা ২০২৩ কত তারিখ? জানতে চান অনেকেই। ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর এবং অন্যটি ঈদুল আযহা। ঈদুল আযহা এর আরেক নাম, কোরবানির ঈদ। ঈদুল আযহা শব্দে আযাহা অর্থ কোরবানি করা তাই ঈদুল আযহা কে কোরবানির ঈদ বলা হয়। চলুন জেনে আসি ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের উৎসবের দিন কুরবানীর ঈদ কত তারিখ ২০২৩, জেনে আসি ঈদুল আযহা ২০২৩ কত তারিখ।

কোরবানির ঈদ কত তারিখে ২০২৩ ঈদুল আযহা কত তারিখে

কোরবানির ঈদ কত তারিখে ২০২৩

ঈদুল আযহা তথা কোরবানির ঈদ পালন করা হয় আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখে। সেই হিসাবে কুরবানীর ঈদ কত তারিখ ২০২৩ তা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইংরেজি ২০২৩ সালের আগামী জুন মাসের ২৯ তারিখ, বৃহস্পতিবার আরবী জিলহজ মাসের ১০ তারিখ পড়ছে। তাই আগামী জুন মাসের ২৯ তারিখ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আরবি মাস যেহেতু চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল তাই আগামী ২৮ জুন, বুধবার বাংলাদেশ ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সুতরাং কোরবানির ঈদ কত তারিখ ২০২৩ তার সঠিক হিসাব অনুযায়ী বলা যায় আগামী ২৮ অথবা ২৯ জুন, বুধবার অথবা বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ঈদুল আযহা তথা কোরবানির ঈদ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

২০২৩ ঈদুল আযহা কত তারিখে কোরবানির ঈদ কত তারিখে

পবিত্র ঈদুল আযাহা জুন মাসের ২৮ অথবা ২৯ তারিখে হবে আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১০ অথবা ১১ তারিখে ঈদুল আযাহা হবে তবে জ্বিলহজ্জ মাসের ১১ তারিখে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি তবে তা নির্ভর করবে চাঁদ দেখার উপর। ইসলামে ঈদুল আযাহ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক পবিত্র দিন। তবে যানা গিয়েছে সৌদির আসবে ঈদুল আযাহ ২৮ তারিখে শুরু হবে বলে জানিয়েছে সৌদির জ্যোতির্বিজ্ঞান দপ্তর। আমরা আগে অনেক দেখেছি যে সৌদি আরবের পরের দিন বাংলাদেশে ঈদ হয়। সেই হিসাবে বাংলাদেশে ঈদুল আযাহা বা কুরবানীর ঈদ ২৯ তারিখে।

ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদের ইতিহাস

মুসলমানদের জাতির পিতা নবী ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বিভিন্নভাবে অনেকবার পরীক্ষা করেছেন। আল্লাহর নেওয়া সকল পরীক্ষায় ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তীর্ণ হয়েছেন। ঠিক এরকমই এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হলেন ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা এক রাতে স্বপ্ন দেখলেন যে আল্লাহ তাকে আদেশ করছেন প্রিয় পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানী করতে।

আল্লাহ তাআলা জানতেন পৃথিবীতে ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে সবচেয়ে প্রিয় তার সন্তান ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম। আর এজন্যই আল্লাহ তাআলা পরীক্ষা নিতে হযরত ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নির্দেশ করলেন প্রিয় পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহর ওয়াস্তে কুরবানী করতে। অতঃপর ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আল্লাহ যাতে খুশি হবেন তিনি সেটাই করবেন। অতঃপর তিনি প্রিয় পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঘটনা খুলে বললেন।

ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিতার মুখে ঘটনা শুনে বললেন,

” হে আমার আব্বা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন ” ( সূরা আস সাফফাত, আয়াত ১০২)

পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন সাহসিকতাপূর্ণ উত্তর পেয়ে ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুশি হলেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গলায় ছুরি চালালেন। আল্লাহ তাআলা ইব্রাহিম আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আত্মত্যাগে খুশি হলেন এবং বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে ইসমাইলের জায়গায় ছুরির নিচে শুসিয়ে দিলেন।

অতঃপর পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবর্তে আল্লাহর নির্দেশে দুম্বা কুরবানী হয়ে গেল। আল্লাহ তাআলা হযরত ইব্রাহিম আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার পুত্র ইসমাইল আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই আত্মত্যাগ কে চিরস্মরণীয় করে রাখতে কুরবানী প্রথা চালু করেন। সারা বিশ্বের মুসলমানরা পবিত্র জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আযহা তথা কুরবানীর ঈদ পালন করেন। এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত যেকোনো দিন প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উপর কুরবানী ওয়াজিব করা হয়েছে।

আরো পড়ুন: বিবাহের খুতবা আরবী ও বাংলা 

আরবি ক্যালেন্ডার জ্বিলহজ্জ মাস ১৪৪৪

এ বছর আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১০/১১ তারিখে পবিত্র ঈদুল আযহা হবে তবে আরবি মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর হওয়ার কারবে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। তবে আরবি জ্বিলহজ্জ মাসের ১১ তারিখে হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

ঈদুল আযহা কত তারিখে আরবি ক্যালেন্ডার জ্বিলহজ্জ মাস ১৪৪৪

(সবচেয়ে আগে সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News পেজ)

4.5/5 - (2 votes)

Leave a Comment

error: Content is protected !!