Info

শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে | শবে কদর নামাজের নিয়ম, দোয়া, ও নিয়ত

শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে, শবে কদর নামাজের নিয়ম, দোয়া, ও নিয়ত নিয়ে থাকছে আজকের প্রতিবেদনটি। আসসালামু আলাইকুম প্রিয় মুসলিম ভাই ও বোনেরা। এখন ইংরেজি ২০২৩ সাল, আরবি ১৪৪৪ হিজরি, রমজান মাস। ইতিমধ্যে আমরা রমজানের রহমতের ১০দিন পার করে মাগফিরাতের ১০দিনে হাজির হয়েছি। রমজান মাস সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের মাস। এই মাসে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল কুরআন নাযিল করেন। আর তিনি এই কুরআন নাজিল করেন শবে কদরের রাত্রে। তাই রমজান মাসে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ রাত শবে কদরের রাত। এই রাতে মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআন মাজিদে একটি সূরা নাযিল করেছেন

إِنَّآ أَنزَلْنَٰهُ فِى لَيْلَةِ ٱلْقَدْر- وَمَآ أَدْرَىٰكَ مَا لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ -لَيْلَةُ ٱلْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ -تَنَزَّلُ ٱلْمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ -سَلَٰمٌ هِىَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ ٱلْفَجْرِ

বাংলায় অর্থ : আমি এ কুরআন কদর তথা মর্যাদাবান রাতে নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন কদর রাত কি? কদর রাত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। এ রাতে অবতীর্ণ হয় ফেরেশতাগণ ও রুহ, প্রতিটি কাজেই তাদের প্রতিপালকের হুকুম মোতাবেক সম্পাদিত হয়।শান্তিই শান্তি তা ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। ( সূরা আল কদর) চলুন দেখে আসে শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে ।

শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে

শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে

রমজান মাসে শবে কদরের রাত্রে সমগ্র বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় আল্লাহর ইবাদতে সারারাত মগ্ন থাকে। শবে কদর ২০২৩ কত তারিখে তা স্পষ্ট কোন রাত নয়। রমজান মাসের শেষের ১০ দিনের যেকোনো এক বিজোড় রাত্রে আল্লাহ সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কুরআন নাযিল করেন। তাই শবে কদর ২০২৩ শুরু হবে রমজান মাসের শেষ ১০ দিন প্রত্যেক বিজোড় রোজার রাত্রে। অর্থাৎ শবে কদর ২০২৩ প্রথম রাত হলো রমজানের শেষের ১০ দিনের প্রথম বিজোড় রোজা, ২১ তম রোজার রাত যা ইংরেজি ১২ ই এপ্রিল, বুধবার দিবাগত রাত প্রথম শবে কদরের রাত। এভাবে পরবর্তী শবে কদর ২০২৩ হলো ২৩ তম রোজার রাত যা ইংরেজি ১৪ এপ্রিল, শুক্রবার দিবাগত রাত। পরবর্তী শবে কদর ২০২৩ হলো ২৫ তম রোজার রাত যা ইংরেজি ১৬ই এপ্রিল, রবিবার দিবাগত রাত। তার পরবর্তী শবে কদর গ্রহণ হলো ২৭ তম রোজার রাত যা ইংরেজি ১৮ই এপ্রিল, মঙ্গলবার দিবাগত রাত। এভাবে সর্বশেষ কদর রাত ২০২৩ হলো ২৯ তম রোজার রাত যা ইংরেজি ২০ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত। অর্থাৎ শবে কদর ২০২৩ ইংরেজি ১২ , ১৪, ১৬, ১৮ ও ২০ই এপ্রিল তারিখে দিবাগত রাত সমূহে পালন করা হবে।

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যে একটা ভুল ধারণা প্রচারিত রয়েছে যে, সবাই মনে করে শবে কদরের রাত রমজান মাসের বীজোড়তম রোজা ২৭ তম রোজার রাত। আসলে আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য আল কুরআন নাযিল করেন রমজান মাসের শেষের ১০ দিনের যেকোনো এক বিজোড় রাত্রে। তাই শবে কদরের রাত হিসাবে রমজান মাসের ২১ তম, ২৩ তম, ২৫ তম, ২৭তম ও ২৯ তম রোজার রাতগুলি মনে করা হয় ।

শবে কদর নামাজের নিয়ম | শবে কদর নামাজ কয় রাকাত

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত, শবে কদর রাত তথা লাইলাতুল কদর হল হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ রাত। এই রাতে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সারারাত জেগে ইবাদত করতে থাকেন। হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

” যে কেউ ঈমান ও সওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদর রাত্রিতে সালাত আদায় করতে দাঁড়াবে তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে” ( বুখারী শরীফ)।

শবে কদরে রাত্রে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সারারাত জেগে নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও অন্যান্য ইবাদত করে থাকেন। তবে শবে কদর নামাজের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। এক্ষেত্রে শবে কদরের রাত্রে দুই রাকাত করে নফল নামাজ ধীরে, মনোযোগ সহকারে আদায় করবে। শবে কদরের নামাজ কয় রাকাত বলে অনেকে প্রশ্ন করেন। প্রকৃতপক্ষে শবে কদর নামাজ নির্দিষ্টভাবে কয় রাকাত পড়তে হবে তার কোন নিয়ম নেই। তবে শবে কদরের নামাজ দুই রাকাত করে ধীরে, সুন্দর ও মনোযোগ সহকারে সারারাত আদায় করা যায়।এছাড়াও শবে কদর রাত্রে বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত দোয়া ও ইস্তেগফার পাঠ করা উত্তম।

শবে কদরের নামাজ কত রাকাত | শবে কদর নামাজের নিয়ম

শবে কদরের নামাজ কত রাকাত তার নির্দিষ্ট কোন হিসাব নেই। আল্লাহ কদরের রাতের ইবাদতকে হাজার মাসের ইবাদত থেকে উত্তম বলেছেন। অর্থাৎ এই রাত্রে মুসলমানগন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সারা রাত্রি ধরে ইবাদত করতে থাকেন। আর শবে কদরের রাত্রে কদরের নামাজ হিসেবে দুই রাকাত করে নফল নামাজ সুন্দর, ধীরে ও মনোযোগ সহকারে সারা রাত্রি ধরে আদায় করতে পারে। তবে শবে কদরের নামাজে প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর একবার সূরা কদর ও তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করা উত্তম।

শবে কদর নামাজের নিয়ত | শবে কদর ২০২৩

হযরত আয়েশা রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন,

” রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের শেষ ১০ দিন মসজিদে অবস্থান করতেন। এবং তিনি বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ ১০ দিন লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো ” ( বুখারী শরীফ)

লাইলাতুল কদর তথা শবে কদর রাত্রের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত থেকে উত্তম। এই রাতে বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও বিভিন্ন দোয়া ইস্তেগফার পাঠ করেন। নিচে শবে কদর নামাজের নিয়ত বাংলা ও আরবীতে দেওয়া হল।

শবে কদর নামাজের নিয়ত আরবিতে, বাংলা উচ্চারণ : “নাওয়াইতুআন উছল্লিয়া লিল্লা-হি তাআলা, রাক‘আতাই ছালাতি লাইলাতুল কদরনাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা‘বাতিশ শারীফাতি আল্লা-হু আকবার ”

শবে কদর নামাজের নিয়ত বাংলায় “আমি কেবলামূখী হয়ে আল্লাহ্ এর উদ্দেশ্যে শবে কদরের দুই রাকআত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করলাম, আল্লাহু আকবার “।

শবে কদরের রাত্রে দুই রাকাত করে নফল নামাজ সুন্দর, ধীরে, মনোযোগ সহকারে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত আদায় করা যায়।

শবে কদর নামাজের দোয়া

শবে কদর তথা লাইলাতুল কদর, এটি একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ রাত যা রমজানের শেষ ১০ দিন বিজোড় রাত্রির যেকোনো এক রাত বলে মনে করা হয়। আল্লাহ তাআলা শবে কদরের রাত্রে সমগ্র মানবজাতির হেদায়েতের জন্য পবিত্র কোরআন লাওহে মাহফুজে একত্রে নাযিল করেন। এই রাতকে আল্লাহ বরকতময় রাত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। লাইলাতুল কদর রাত্রের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদত থেকে উত্তম। তাই এই রাত্রে সমগ্র বিশ্বের মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার ইবাদতে মশগুল থাকে। সারারাত জেগে শবে কদরের নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, বিভিন্ন দোয়া ও ইস্তেগফার পাঠ করতে থাকে।

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, ” মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

তোমরা শবে কদরের রাত্রে اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي এই দোয়া বেশি বেশি করে পাঠ করবে ”
(মুসনাদে আহমাদ, তিরমিজি, মিশকাত ইবনে মাজাহ)

শবে কদর নামাজের দোয়া বাংলা উচ্চারণ : “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।”

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।

এছাড়াও শবে কদরের মহামান্বিত এই রাত্রে বেশি বেশি পরিমাণ তওবা, দোয়া ও ইস্তেগফার পাঠ করতে হয়।

আরো পড়ুন: রমজানের সময় সূচি 2023

শবে কদরের ফজিলত | শবে কদর ২০২৩

শবে কদরের ফজিলত সম্পর্কে জানাতে মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সূরা আল কদর নাযিল করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই সূরায় বলেন বাংলা অর্থ : আমি এ কুরআন কদর তথা মর্যাদাবান রাত্রে নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন কদর রাত কি? কদর রাত হল হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। এই রাতে অবতীর্ণ হয় ফেরেশতাগণ ও রুহ, প্রতিটি কাজই তাদের প্রতিপালকের হুকুম মোতাবেক সম্পাদিত হয়। শান্তিই শান্তি তা ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

শবে কদরের রাত্রে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনকে একসঙ্গে লাওহে মাহফুজে নাযিল করেন। তাই এই রাত অন্য সকল রাত থেকে আলাদা এক বরকত ময় রাত। এই রাত বান্দার তাকদীর নির্ধারণের রাত, এই রাত বান্দার দোয়া কবুলের রাত, এই রাত বান্দার গুনাহ থেকে ক্ষমা পাওয়ার রাত। এই প্রসঙ্গে আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,

“যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দিবেন ” (বুখারি শরিফ, ইমান অধ্যায়, পরিচ্ছেদ: ২৫, পৃষ্ঠা: ২৯-৩০)

শবে কদরের আমলসমূহ | শবে কদর ২০২৩

লাইলাতুল কদর তথা শবে কদর ২০২৩ এর রাত্রে নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। তবে এই রাত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বেশি বেশি কদরের নামাজ তথা নফল নামাজ, তওবা, দোয়া ও ইস্তেগফার পাঠ করতে হয়। কেননা আল্লাহ এই রাত্রের মর্যাদা হাজার হাজার মাসের থেকে উত্তম বলেছেন।

বাংলাদেশে ২৪শে মার্চ রমজান শুরু হয়েছে এবং শবে কদর ২০২৩ শুরু হবে রমজান মাসের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তম রোজার দিবাগত রাতে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button